dhaka-coxsbazar-train-schedule-2026.html
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজারে এখন ট্রেনে করেই সরাসরি পৌঁছানো যায়—আর এই সুবিধা ভ্রমণপিপাসুদের কাছে রেলপথকে করে তুলেছে সবচেয়ে আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী বিকল্প। আপনি যদি ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনের সময়সূচি ২০২৬ খুঁজে থাকেন, তবে এই লেখাটিই আপনার জন্য সম্পূর্ণ গাইড। এখানে ধাপে ধাপে জানাব—কোন ট্রেনগুলো চলে, ছাড়ার ও পৌঁছানোর সময়, প্রতিটি শ্রেণির ভাড়া, সাপ্তাহিক বন্ধের দিন, অনলাইনে টিকিট কাটার নিয়ম, যাত্রাপথের দূরত্ব এবং ভ্রমণের আগে জরুরি কিছু টিপস। পুরো লেখাটি পড়লে আশা করি আপনার কক্সবাজার ভ্রমণ পরিকল্পনা একদম সহজ হয়ে যাবে।
- ঢাকা–কক্সবাজার রেলপথ কেন সেরা পছন্দ
- এই রুটে চলাচলকারী ট্রেনের নাম
- ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনের সময়সূচি ২০২৬
- কক্সবাজার থেকে ঢাকা ফেরার সময়সূচি
- ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের ভাড়া ২০২৬
- কোন শ্রেণিতে কেমন সুবিধা
- অনলাইনে ও কাউন্টারে টিকিট কাটার নিয়ম
- দূরত্ব, সময় ও যাত্রাপথের আকর্ষণ
- ভ্রমণের আগে করণীয় প্রস্তুতি
- সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
ঢাকা–কক্সবাজার রেলপথ কেন সেরা পছন্দ
কিছু বছর আগেও ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার একমাত্র উপায় ছিল বাস কিংবা বিমান। বাসে দীর্ঘ ১০–১২ ঘণ্টার ক্লান্তিকর যাত্রা, আর বিমানে গেলে খরচ অনেক বেশি। ২০২৩ সালের শেষ দিকে দোহাজারী–কক্সবাজার রেললাইন চালু হওয়ার পর এই দূরত্ব অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। এখন আপনি আরামদায়ক সিটে বসে জানালার পাশ দিয়ে সবুজ মাঠ, পাহাড় আর অসংখ্য সেতু দেখতে দেখতে সরাসরি কক্সবাজার শহরে পৌঁছাতে পারবেন।
রেলপথে ভ্রমণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো খরচ কম, যাত্রা নিরাপদ এবং আবহাওয়া বা যানজটের কারণে দেরির ঝুঁকি অনেক কম। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে, বন্ধুদের দল বেঁধে কিংবা একা ভ্রমণের জন্য কক্সবাজারগামী এই ট্রেনগুলো এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
ঢাকা টু কক্সবাজার চলাচলকারী ট্রেনের নাম
বর্তমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে নিয়মিত দুটি আন্তঃনগর ট্রেন সরাসরি চলাচল করে। সাপ্তাহিক বন্ধের দিন বাদে সপ্তাহের বাকি ছয় দিন এই ট্রেন দুটি যাত্রীসেবা দেয়:
- কক্সবাজার এক্সপ্রেস (৮১৩/৮১৪): এটি রাতের ট্রেন—যাঁরা ঘুমিয়ে সকালে গন্তব্যে পৌঁছাতে চান, তাঁদের জন্য আদর্শ।
- পর্যটক এক্সপ্রেস (৮১৫/৮১৬): এটি সকালের ট্রেন—দিনের আলোয় যাত্রাপথের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে এটিই উপযুক্ত।
দুটি ট্রেনই বাংলাদেশ রেলওয়ের কোরিয়ান কোচে পরিচালিত, যেগুলোতে রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও আরামদায়ক আসন। যাত্রাপথে ট্রেন দুটি চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনের সময়সূচি ২০২৬
যাত্রা পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সঠিক সময় জানা। নিচের টেবিলে ঢাকা (কমলাপুর) থেকে কক্সবাজারগামী ট্রেনের হালনাগাদ সময়সূচি দেওয়া হলো:
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নম্বর | ছাড়ার সময় (ঢাকা) | পৌঁছানোর সময় (কক্সবাজার) | সাপ্তাহিক বন্ধ |
|---|---|---|---|---|
| কক্সবাজার এক্সপ্রেস | ৮১৪ | রাত ১০:৩০ মিনিট | সকাল ০৬:৪০ মিনিট | সোমবার |
| পর্যটক এক্সপ্রেস | ৮১৬ | সকাল ০৬:১৫ মিনিট | বিকাল ০৩:০০ মিনিট | রবিবার |
কক্সবাজার থেকে ঢাকা ফেরার সময়সূচি ২০২৬
ভ্রমণ শেষে ফেরার পরিকল্পনার জন্য নিচের টেবিলটি কাজে লাগবে। কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের সময়সূচি:
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নম্বর | ছাড়ার সময় (কক্সবাজার) | পৌঁছানোর সময় (ঢাকা) | সাপ্তাহিক বন্ধ |
|---|---|---|---|---|
| কক্সবাজার এক্সপ্রেস | ৮১৩ | দুপুর ১২:৪০ মিনিট | রাত ০৯:১০ মিনিট | মঙ্গলবার |
| পর্যটক এক্সপ্রেস | ৮১৫ | রাত ০৮:০০ মিনিট | ভোর ০৪:৩০ মিনিট | রবিবার |
লক্ষ্য করুন—কক্সবাজার এক্সপ্রেসের ঢাকাগামী ট্রেন (৮১৩) এবং কক্সবাজারগামী ট্রেন (৮১৪)-এর সাপ্তাহিক বন্ধের দিন আলাদা (যথাক্রমে মঙ্গলবার ও সোমবার)। তাই টিকিট কাটার আগে আপনার যাত্রার তারিখ ও দিন মিলিয়ে নিন।
ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের ভাড়া ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের ভাড়া বেশ সাশ্রয়ী। আসনের শ্রেণিভেদে জনপ্রতি ভাড়ার তালিকা নিচে দেওয়া হলো (ভ্যাটসহ আনুমানিক):
| আসনের শ্রেণি | ধরন | ভাড়া (জনপ্রতি) |
|---|---|---|
| শোভন চেয়ার | নন-এসি চেয়ার | ৬৯৫ টাকা |
| স্নিগ্ধা | এসি চেয়ার | ১,৩২৫ টাকা |
| এসি সিট | এসি চেয়ার (উন্নত) | ১,৫৯০ টাকা |
| এসি বার্থ | শোয়ার ব্যবস্থা | ২,৩৮০ টাকা |
সাধারণ যাত্রীদের জন্য শোভন চেয়ার সবচেয়ে সাশ্রয়ী বিকল্প। গরমের দিনে আরামদায়ক ভ্রমণ চাইলে স্নিগ্ধা বা এসি সিট নিতে পারেন। আর রাতের দীর্ঘ যাত্রায় শুয়ে আরাম করতে চাইলে এসি বার্থই সেরা—তবে এর টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যায়।
কোন শ্রেণিতে কেমন সুবিধা পাবেন
অনেক যাত্রীই বুঝতে পারেন না কোন শ্রেণি তাঁদের জন্য উপযুক্ত। সংক্ষেপে পার্থক্যগুলো জেনে নিন:
- শোভন চেয়ার: নন-এসি, সাধারণ কিন্তু আরামদায়ক চেয়ার। বাজেট যাত্রীদের প্রথম পছন্দ।
- স্নিগ্ধা: পুরোপুরি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) চেয়ার। গরমে দীর্ঘ যাত্রার জন্য আরামদায়ক।
- এসি সিট: উন্নত মানের এসি চেয়ার, বাড়তি লেগরুম ও আরাম।
- এসি বার্থ: রাতের যাত্রায় শুয়ে বিশ্রাম নেওয়ার ব্যবস্থা—পরিবার বা বয়স্কদের জন্য আদর্শ।
অনলাইনে ও কাউন্টারে টিকিট কাটার নিয়ম
অনলাইনে টিকিট কাটার ধাপ
ঘরে বসেই খুব সহজে টিকিট কাটতে পারেন। ধাপগুলো হলো:
- ১. বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd-এ যান অথবা Rail Sheba অ্যাপ ব্যবহার করুন।
- ২. মোবাইল নম্বর ও এনআইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন/লগইন করুন।
- ৩. “From” ঘরে ঢাকা এবং “To” ঘরে কক্সবাজার নির্বাচন করুন।
- ৪. যাত্রার তারিখ ও যাত্রী সংখ্যা দিয়ে “Search Train” বাটনে ক্লিক করুন।
- ৫. পছন্দের ট্রেন ও শ্রেণি বেছে নিয়ে আসন নির্বাচন করুন।
- ৬. বিকাশ, নগদ বা কার্ডে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন—টিকিট আপনার ইমেইলে চলে আসবে।
কাউন্টার থেকে টিকিট
চাইলে কমলাপুর বা বিমানবন্দর স্টেশনের কাউন্টার থেকেও টিকিট কাটতে পারেন। অগ্রিম টিকিট সাধারণত যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে ছাড়া হয়। তবে ছুটির মৌসুমে কাউন্টারে ভিড় বেশি থাকে, তাই অনলাইন পদ্ধতিই বেশি সুবিধাজনক।
দূরত্ব, সময় ও যাত্রাপথের আকর্ষণ
রেলপথে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার, আর যাত্রায় সময় লাগে আনুমানিক ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা। যাত্রাপথে ফেনী, চট্টগ্রাম হয়ে দোহাজারী–রামু–কক্সবাজার রেলরুটে পড়বে অসংখ্য পাহাড়, সবুজ বন ও দৃষ্টিনন্দন সেতু। বিশেষ করে চট্টগ্রাম পেরোনোর পর প্রকৃতির রূপ চোখ জুড়িয়ে দেবে। রাতের ট্রেনে গেলে সকালের নরম আলোয় কক্সবাজারের সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে।
ভ্রমণের সেরা সময়
কক্সবাজার ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় শীতকাল (নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি)। এ সময় আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং সৈকতে সময় কাটানো আরামদায়ক হয়। তবে ট্রেনের সময়সূচি ও ভাড়া সারা বছরই প্রায় একই থাকে, তাই যেকোনো সময় পরিকল্পনা করতে পারেন। ছুটির মৌসুমে টিকিটের চাহিদা বেড়ে যায়, তাই আগেভাগে বুক করে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ট্রেন ভ্রমণের আগে করণীয় প্রস্তুতি
- যাত্রার অন্তত ১০ দিন আগে অনলাইনে টিকিট কেটে রাখুন।
- ট্রেনে খাবার পাওয়া গেলেও নিজের পছন্দের শুকনো খাবার (বিস্কুট, ফল, পানি) সাথে রাখুন।
- প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জরুরি জিনিস হাতের কাছে রাখুন।
- টিকিট বুকিংয়ে ব্যবহৃত এনআইডি এবং টিকিটের প্রিন্ট/স্ক্রিনশট সাথে রাখুন।
- ট্রেন ছাড়ার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্টেশনে পৌঁছান—কমলাপুর স্টেশন বড়, প্ল্যাটফর্ম খুঁজে পেতে সময় লাগতে পারে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ঢাকা থেকে কক্সবাজার কয়টি ট্রেন চলে?
বর্তমানে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন—কক্সবাজার এক্সপ্রেস (৮১৩/৮১৪) ও পর্যটক এক্সপ্রেস (৮১৫/৮১৬) সরাসরি চলাচল করে।
২. কক্সবাজার এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে কখন ছাড়ে?
কক্সবাজার এক্সপ্রেস (৮১৪) ঢাকা কমলাপুর থেকে রাত ১০:৩০ মিনিটে ছাড়ে এবং সকাল ০৬:৪০ মিনিটে কক্সবাজার পৌঁছায়।
৩. পর্যটক এক্সপ্রেসের সময়সূচি কী?
পর্যটক এক্সপ্রেস (৮১৬) ঢাকা থেকে সকাল ০৬:১৫ মিনিটে ছাড়ে এবং বিকাল ০৩:০০ মিনিটের দিকে কক্সবাজার পৌঁছায়।
৪. ট্রেন দুটির সাপ্তাহিক বন্ধের দিন কবে?
কক্সবাজার এক্সপ্রেস ৮১৪-এর বন্ধ সোমবার ও ৮১৩-এর বন্ধ মঙ্গলবার; পর্যটক এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক বন্ধ রবিবার।
৫. ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের ভাড়া কত?
শোভন চেয়ার ৬৯৫, স্নিগ্ধা ১,৩২৫, এসি সিট ১,৫৯০ এবং এসি বার্থ ২,৩৮০ টাকা (জনপ্রতি)।
৬. অনলাইনে টিকিট কোথা থেকে কাটব?
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd অথবা Rail Sheba অ্যাপ থেকে টিকিট কাটা যায়।
৭. কতদিন আগে অগ্রিম টিকিট পাওয়া যায়?
সাধারণত যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে অগ্রিম টিকিট ছাড়া হয়। ছুটির মৌসুমে দ্রুত শেষ হয়ে যায়।
৮. ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনে যেতে কত সময় লাগে?
রেলপথে দূরত্ব প্রায় ৪৫০ কিমি; যাত্রায় সময় লাগে আনুমানিক ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা।
আরও পড়ুন (সম্পর্কিত পোস্ট)
- 👉 অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম (সম্পূর্ণ গাইড)
- 👉 ট্রেনের টিকিট ক্যান্সেল ও রিফান্ডের নিয়ম
- 👉 শোভন, স্নিগ্ধা ও এসি সিটের পার্থক্য
- 👉 সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচি ও ভাড়া
শেষ কথা
আশা করি এই বিস্তারিত গাইড থেকে ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনের সময়সূচি ২০২৬, ভাড়া, সাপ্তাহিক বন্ধ ও টিকিট কাটার নিয়ম সম্পর্কে আপনার সব প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন। রেলপথে কক্সবাজার ভ্রমণ এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী। উপরের সময়সূচি ও ভাড়ার টেবিল অনুসরণ করে আপনি সহজেই আপনার ভ্রমণ সাজিয়ে নিতে পারেন। কোনো প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় কমেন্ট করুন—নিরাপদ ও আনন্দময় হোক আপনার যাত্রা।

mamunskblog.com-এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url