ট্রেনের শোভন, স্নিগ্ধা ও এসি সিটের পার্থক্য — কোনটি ভালো?
বাংলাদেশে দূরপাল্লার ভ্রমণের জন্য ট্রেন এখনো সবচেয়ে নিরাপদ, আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী মাধ্যমগুলোর একটি। কিন্তু অনলাইনে টিকিট কাটতে গিয়ে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন — শোভন, শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা, এসি সিট, এসি বার্থ — এত রকমের আসন শ্রেণি দেখে বোঝা মুশকিল হয়ে যায় ঠিক কোনটি বেছে নেওয়া উচিত। ভাড়ার পার্থক্যও কম নয়; একই রুটে শোভন চেয়ার আর এসি বার্থের ভাড়ার মধ্যে কখনো কখনো তিন-চার গুণ ব্যবধান থাকে।
এই পোস্টে আমি সহজ বাংলায় বিস্তারিত আলোচনা করব — শোভন, স্নিগ্ধা ও এসি সিটের মধ্যে আসল পার্থক্য কী, কোন আসনে কেমন সুবিধা পাওয়া যায়, ভাড়ার ক্রম কেমন এবং আপনার বাজেট ও যাত্রার ধরন অনুযায়ী কোন সিটটি বেছে নেওয়া আপনার জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সাথে থাকছে ই-টিকেটে দেখানো কোডগুলোর (AC_S, AC_B) মানে, যা অনেক যাত্রীকেই দ্বিধায় ফেলে দেয়।
- বাংলাদেশ রেলওয়ের আসন শ্রেণি — এক নজরে
- শোভন (Shovan) সিট কী?
- শোভন চেয়ার কী?
- স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) কী?
- এসি সিট (AC_S) কী?
- এসি বার্থ (AC_B) কী?
- শোভন, স্নিগ্ধা ও এসি সিটের মূল পার্থক্য (তুলনা টেবিল)
- ভাড়ার তুলনা — কোনটির খরচ কত?
- কোন সিট কার জন্য উপযুক্ত — কোনটি বেছে নেবেন?
- ই-টিকেটের কোড: AC_S, AC_B, S_CHAIR মানে কী?
- টিকিট কাটার সময় যা খেয়াল রাখবেন
- স্নিগ্ধা না এসি সিট — সবচেয়ে বেশি যে দ্বিধাটি হয়
- আসন বেছে নেওয়ার আগে নিজেকে যে ৩টি প্রশ্ন করবেন
- প্রশ্নোত্তর (FAQ)
বাংলাদেশ রেলওয়ের আসন শ্রেণি — এক নজরে
বাংলাদেশ রেলওয়ের আন্তঃনগর (Intercity) ট্রেনগুলোতে সাধারণত একাধিক শ্রেণির আসন থাকে, যেগুলো মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায় — নন-এসি এবং এসি। নন-এসি শ্রেণির মধ্যে আছে শোভন ও শোভন চেয়ার; আর এসি শ্রেণির মধ্যে আছে স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার), এসি সিট ও এসি বার্থ। প্রতিটি শ্রেণির আরাম, সুবিধা ও ভাড়া আলাদা।
সব ট্রেনে আবার সব শ্রেণি থাকে না। যেমন — মেইল ও লোকাল ট্রেনে সাধারণত শুধু শোভন বা শোভন চেয়ার পাওয়া যায়, আর জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেনে স্নিগ্ধা, এসি সিট ও এসি বার্থ পর্যন্ত পাওয়া যায়। এসি বার্থ আবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুধু রাতের দীর্ঘ যাত্রার ট্রেনেই থাকে। নিচে প্রতিটি শ্রেণি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
শোভন (Shovan) সিট কী?
শোভন (ইংরেজিতে Shovan বা SHULOV) হলো বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয়ে সাশ্রয়ী আসন শ্রেণি। এটি একটি নন-এসি চেয়ার সিট, যা মূলত দেশের সব মেইল ট্রেন এবং কিছু আন্তঃনগর ট্রেনে পাওয়া যায়। যারা একেবারে কম খরচে যাতায়াত করতে চান, তাদের জন্য এটি উপযুক্ত।
তবে সততার সাথে বললে, শোভন সিট সবচেয়ে আরামদায়ক নয়। সিটগুলো সাধারণত ফিক্সড অর্থাৎ পেছনে হেলান দিয়ে আরাম করার সুযোগ সীমিত, এবং বগিতে ভিড় বেশি থাকতে পারে। স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণের জন্য এটি ঠিক আছে, কিন্তু দীর্ঘ যাত্রায় ক্লান্তি লাগতে পারে। বাজেট-সচেতন যাত্রী এবং স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের জন্য এটি প্রথম পছন্দ।
শোভন চেয়ার কী?
শোভন চেয়ার (S_CHAIR) হলো শোভনেরই উন্নত সংস্করণ — এটিও নন-এসি, কিন্তু আসনগুলো অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক ও সুসজ্জিত। বাংলাদেশের প্রায় সব আন্তঃনগর ট্রেনেই শোভন চেয়ার থাকে, এবং এটি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় আসন শ্রেণিগুলোর একটি।
কম খরচে কিছুটা আরামদায়ক ভ্রমণ চাইলে শোভন চেয়ার চমৎকার একটি অপশন। গরমের দিনে যদিও এতে এসি থাকে না, তবু সাধারণ যাত্রার জন্য এটি যথেষ্ট। দিনের বেলা মাঝারি দূরত্বের ভ্রমণে অধিকাংশ যাত্রী শোভন চেয়ারকেই বেছে নেন, কারণ এতে ভাড়া ও আরামের ভারসাম্য সবচেয়ে ভালো।
স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) কী?
স্নিগ্ধা (Snigdha) এসি চেয়ার (AC_CHAIR) নামেও পরিচিত। নাম থেকেই বোঝা যায় — এটি একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) চেয়ার আসন। স্নিগ্ধার আসন অনেকটা শোভন চেয়ারের মতোই, তবে পার্থক্য হলো পুরো বগিটি এসি থাকে। ফলে গরমের দিনেও যাত্রা আরামদায়ক হয়।
দেশের বেশিরভাগ জনপ্রিয় গন্তব্যের আন্তঃনগর ট্রেনে স্নিগ্ধা কোচ থাকে। কম খরচে এসি কোচে ভ্রমণ করতে চাইলে স্নিগ্ধা সবচেয়ে ভালো পছন্দ — কারণ এটি এসি শ্রেণির মধ্যে সবচেয়ে সাশ্রয়ী। এর ভাড়া শোভন চেয়ারের চেয়ে বেশি হলেও এসি সিট বা এসি বার্থের চেয়ে অনেকটাই কম। যারা গরম এড়াতে চান অথচ বাজেটও সীমিত, তাদের জন্য স্নিগ্ধা আদর্শ।
এসি সিট (AC_S) কী?
এসি সিট (ই-টিকেটে কোড AC_S) হলো একটি উন্নত মানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আসন, যা দিনের বেলার যাত্রার জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত। স্নিগ্ধার চেয়ে এসি সিটের কোচ আরও বেশি পরিপাটি ও আরামদায়ক — অনেক ক্ষেত্রে কার্পেটের মেঝে, প্রশস্ত আসন এবং রিক্লাইনিং (পেছনে হেলান দেওয়া যায় এমন) সুবিধা পাওয়া যায়।
স্নিগ্ধা ও এসি সিট — দুটোই এসি চেয়ার শ্রেণির হলেও এসি সিট তুলনামূলকভাবে প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা দেয়। দিনের বেলা দীর্ঘ যাত্রায় বাড়তি আরাম চাইলে এবং বাজেটে কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য থাকলে এসি সিট বেছে নেওয়া যায়। এর ভাড়া স্নিগ্ধার চেয়ে বেশি, তবে এসি বার্থের চেয়ে কম।
এসি বার্থ (AC_B) কী?
এসি বার্থ (ই-টিকেটে কোড AC_B) হলো বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয়ে বিলাসবহুল ও সর্বোচ্চ ভাড়ার আসন শ্রেণি। "বার্থ" শব্দের অর্থ শোয়ার ব্যবস্থা — অর্থাৎ এসি বার্থ আসলে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্লিপার কেবিন, যেখানে শুয়ে ভ্রমণ করা যায়।
এই শ্রেণিটি মূলত রাতের দীর্ঘ যাত্রার ট্রেনেই পাওয়া যায়। সাধারণত ২ থেকে ৪ জনের আলাদা কেবিন থাকে, যেখানে গোপনীয়তা ও আরাম দুটোই সর্বোচ্চ। যারা সারারাত ভ্রমণ করে সকালে গন্তব্যে পৌঁছাতে চান এবং পথেই বিশ্রাম নিতে চান, তাদের জন্য এসি বার্থ আদর্শ। তবে এর ভাড়া অন্য সব শ্রেণির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
শোভন, স্নিগ্ধা ও এসি সিটের মূল পার্থক্য (তুলনা টেবিল)
নিচের টেবিলে প্রধান আসন শ্রেণিগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য এক নজরে তুলে ধরা হলো, যাতে পার্থক্য সহজে বোঝা যায়:
| আসন শ্রেণি | এসি/নন-এসি | আরামের মাত্রা | উপযুক্ত যাত্রা | ভাড়া |
|---|---|---|---|---|
| শোভন | নন-এসি | সাধারণ | স্বল্প দূরত্ব | সবচেয়ে কম |
| শোভন চেয়ার | নন-এসি | মাঝারি | দিনের বেলা মাঝারি দূরত্ব | কম |
| স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | এসি | ভালো | গরমে দিনের যাত্রা | মাঝারি |
| এসি সিট (AC_S) | এসি | অধিক আরামদায়ক | দিনের দীর্ঘ যাত্রা | বেশি |
| এসি বার্থ (AC_B) | এসি (স্লিপার) | সর্বোচ্চ | রাতের দীর্ঘ যাত্রা | সবচেয়ে বেশি |
সংক্ষেপে — শোভন ও শোভন চেয়ার নন-এসি ও সাশ্রয়ী; স্নিগ্ধা সাশ্রয়ী এসি চেয়ার; এসি সিট প্রিমিয়াম এসি চেয়ার; আর এসি বার্থ হলো শুয়ে ভ্রমণের বিলাসবহুল কেবিন।
ভাড়ার তুলনা — কোনটির খরচ কত?
ভাড়া রুট ও দূরত্বভেদে আলাদা হয়, তবে শ্রেণিগুলোর আপেক্ষিক ক্রম সব রুটেই একই থাকে — শোভন সবচেয়ে কম, এসি বার্থ সবচেয়ে বেশি। বাস্তব ধারণা দিতে নিচে দুটি জনপ্রিয় রুটের সাম্প্রতিক ভাড়ার উদাহরণ দেওয়া হলো (ভ্যাটসহ, আনুমানিক):
| আসন শ্রেণি | ঢাকা–কক্সবাজার (টাকা) | চট্টগ্রাম–সিলেট (টাকা) |
|---|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৬৯৫ | ~৩৭০ |
| স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | ১,৩২৫ | ৯০৯ |
| এসি সিট (AC_S) | ১,৫৯০ | ১,০৮৭ |
| এসি বার্থ (AC_B) | ২,৪৩০ | ১,৬৭৮ |
লক্ষ্য করুন: উপরের ভাড়া কেবল ধারণা দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের তথ্য। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সময়ে সময়ে ভাড়া সংশোধন করে, তাই টিকিট কাটার আগে অবশ্যই অফিসিয়াল ই-টিকেট ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) থেকে হালনাগাদ ভাড়া যাচাই করে নেবেন।
কোন সিট কার জন্য উপযুক্ত — কোনটি বেছে নেবেন?
এবার আসল প্রশ্ন — আপনি কোনটি বেছে নেবেন? এর সহজ উত্তর হলো, এটি নির্ভর করে আপনার বাজেট, যাত্রার সময় (দিন না রাত), দূরত্ব এবং আরামের চাহিদার উপর। নিচে কিছু সহজ সুপারিশ দেওয়া হলো:
- একদম কম খরচে স্বল্প দূরত্বে যেতে চাইলে: শোভন বা শোভন চেয়ার বেছে নিন। স্বল্প দূরত্বের জন্য এসি লাগে না, আর খরচও বাঁচে।
- কম খরচে কিন্তু গরম এড়িয়ে আরামে যেতে চাইলে: স্নিগ্ধা সবচেয়ে ভালো। এটি সাশ্রয়ী এসি অভিজ্ঞতার সেরা ভারসাম্য।
- দিনের বেলা দীর্ঘ যাত্রায় বাড়তি আরাম চাইলে: এসি সিট (AC_S) বেছে নিন। প্রশস্ত আসন ও পরিপাটি কোচে যাত্রা আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
- রাতে দীর্ঘ পথে শুয়ে বিশ্রাম নিতে নিতে যেতে চাইলে: এসি বার্থ (AC_B)-ই সেরা, যদিও খরচ বেশি।
সরল সিদ্ধান্ত: বেশিরভাগ সাধারণ যাত্রীর জন্য — দিনের যাত্রায় বাজেট কম হলে শোভন চেয়ার, একটু বেশি বাজেট ও আরাম চাইলে স্নিগ্ধাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের পছন্দ। স্নিগ্ধা ও এসি সিটের মধ্যে বেছে নিতে হলে — ভাড়ার পার্থক্য বনাম বাড়তি আরাম ওজন করে দেখুন; খুব দীর্ঘ যাত্রা না হলে স্নিগ্ধাই যথেষ্ট।
ই-টিকেটের কোড: AC_S, AC_B, S_CHAIR মানে কী?
অনেকেই অনলাইনে টিকিট কাটতে গিয়ে বগি/সিট সিলেকশনে কিছু সংক্ষিপ্ত কোড দেখে বিভ্রান্ত হন। এই কোডগুলো আসলে আসন শ্রেণিরই সংক্ষিপ্ত রূপ। বিভ্রান্তি দূর করতে নিচের টেবিলটি দেখুন:
| ই-টিকেট কোড | পূর্ণ অর্থ |
|---|---|
| SHULOV | শোভন (নন-এসি) |
| S_CHAIR | শোভন চেয়ার (নন-এসি) |
| SNIGDHA | স্নিগ্ধা / এসি চেয়ার |
| AC_S | এসি সিট (দিনের যাত্রা) |
| AC_B | এসি বার্থ / কেবিন (রাতের যাত্রা) |
| F_SEAT / F_BERTH | প্রথম শ্রেণির সিট / বার্থ |
এখন থেকে অনলাইনে টিকিট কাটার সময় এই কোডগুলো দেখলে আর বিভ্রান্ত হবেন না — সরাসরি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রেণি বেছে নিতে পারবেন।
টিকিট কাটার সময় যা খেয়াল রাখবেন
সঠিক আসন বেছে নেওয়ার পাশাপাশি টিকিট কাটার সময় কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকলে যাত্রা আরও ঝামেলামুক্ত হয়:
- যাত্রার তারিখের অন্তত কয়েকদিন আগে টিকিট কাটুন — বিশেষ করে স্নিগ্ধা, এসি সিট ও এসি বার্থ দ্রুত শেষ হয়ে যায়।
- এসি বার্থ শুধু রাতের নির্দিষ্ট কিছু ট্রেনেই থাকে; দিনের ট্রেনে খুঁজে না পেলে অবাক হবেন না।
- উইন্ডো সিট পছন্দ করলে সিট নম্বর দেখে নিন; সাধারণত নির্দিষ্ট নম্বরগুলো জানালার পাশে পড়ে।
- ভাড়ার সাথে সাধারণত ভ্যাট যুক্ত থাকে, তাই চূড়ান্ত মূল্য কিছুটা বেশি দেখাতে পারে।
- টিকিট কাটার সময় নাম, মোবাইল নম্বর ও NID তথ্য সঠিকভাবে দিন — ভুল হলে যাত্রায় সমস্যা হতে পারে।
স্নিগ্ধা না এসি সিট — সবচেয়ে বেশি যে দ্বিধাটি হয়
আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি আসে তা হলো — স্নিগ্ধা আর এসি সিটের মধ্যে কোনটি নেওয়া উচিত? যেহেতু দুটোই এসি চেয়ার শ্রেণি এবং দেখতে অনেকটা একই রকম, তাই অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না কোনটিতে টাকা খরচ করা যুক্তিসঙ্গত।
মূল পার্থক্যটা মূলত আসনের প্রশস্ততা, কোচের সাজসজ্জা ও সামগ্রিক অভিজ্ঞতায়। স্নিগ্ধা একটি মানসম্মত এসি চেয়ার — গরম থেকে রক্ষা পাবেন, আসনও আরামদায়ক। অন্যদিকে এসি সিট সাধারণত আরও প্রশস্ত, কোচ আরও পরিপাটি এবং কিছু ট্রেনে অতিরিক্ত সুবিধা থাকে। তবে এই বাড়তি আরামের জন্য আপনাকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি ভাড়া গুনতে হবে।
সহজ একটি নিয়ম মনে রাখুন: যদি আপনার যাত্রা ৪-৫ ঘণ্টার কম হয়, তাহলে স্নিগ্ধাই যথেষ্ট — বাড়তি টাকা খরচ করে এসি সিট নেওয়ার তেমন প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি যাত্রা দীর্ঘ হয় এবং আপনি সারাদিন আরামে বসে থাকতে চান, তখন এসি সিটের বাড়তি প্রশস্ততা টাকার সঠিক ব্যবহার মনে হবে। অর্থাৎ যাত্রার দৈর্ঘ্যই এখানে মূল নির্ধারক।
আসন বেছে নেওয়ার আগে নিজেকে যে ৩টি প্রশ্ন করবেন
সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে টিকিট কাটার আগে নিজেকে এই তিনটি প্রশ্ন করুন:
- আমার যাত্রা দিনে না রাতে? — রাতের দীর্ঘ যাত্রা হলে এসি বার্থ বিবেচনা করুন; দিনের যাত্রায় চেয়ার শ্রেণিই যথেষ্ট।
- আমার বাজেট কত? — বাজেট আঁটসাঁট হলে শোভন চেয়ার বা স্নিগ্ধা; স্বাচ্ছন্দ্য থাকলে এসি সিট বা বার্থ।
- আমি কতক্ষণ ট্রেনে থাকব? — যাত্রা যত দীর্ঘ, তত বেশি আরামদায়ক শ্রেণিতে বিনিয়োগ করা যুক্তিসঙ্গত।
এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর মিলিয়ে নিলে কোন শ্রেণিটি আপনার জন্য আদর্শ, তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। বেশিরভাগ যাত্রীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, এই বিশ্লেষণের পর হয় স্নিগ্ধা নয়তো শোভন চেয়ারই সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পছন্দ হিসেবে উঠে আসে — কারণ এ দুটিতেই ভাড়া ও আরামের সবচেয়ে কার্যকর সমন্বয় পাওয়া যায়।
প্রশ্নোত্তর (FAQ)
১. শোভন আর শোভন চেয়ারের মধ্যে পার্থক্য কী?
দুটোই নন-এসি, তবে শোভন চেয়ারের আসন তুলনামূলকভাবে বেশি আরামদায়ক ও সুসজ্জিত এবং প্রায় সব আন্তঃনগর ট্রেনে থাকে। শোভন সবচেয়ে কম খরচের সাধারণ আসন, যা মূলত মেইল ট্রেনে পাওয়া যায়।
২. স্নিগ্ধা ও এসি সিটের মধ্যে কোনটি ভালো?
দুটোই এসি চেয়ার শ্রেণি, তবে এসি সিট (AC_S) সাধারণত বেশি প্রশস্ত ও আরামদায়ক এবং এর ভাড়া বেশি। কম খরচে এসি ভ্রমণ চাইলে স্নিগ্ধা, আর বাড়তি আরাম চাইলে এসি সিট বেছে নিন।
৩. এসি বার্থ আর এসি সিটের পার্থক্য কী?
এসি সিট হলো বসার আসন (দিনের যাত্রার জন্য), আর এসি বার্থ হলো শোয়ার কেবিন (রাতের দীর্ঘ যাত্রার জন্য)। এসি বার্থের ভাড়া সবচেয়ে বেশি।
৪. কোন আসনের ভাড়া সবচেয়ে কম এবং সবচেয়ে বেশি?
সবচেয়ে কম ভাড়া শোভন আসনের, আর সবচেয়ে বেশি ভাড়া এসি বার্থের। ক্রমটি হলো: শোভন < শোভন চেয়ার < স্নিগ্ধা < এসি সিট < এসি বার্থ।
৫. AC_S এবং AC_B মানে কী?
AC_S মানে এসি সিট (দিনের যাত্রার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আসন) এবং AC_B মানে এসি বার্থ (রাতের যাত্রার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শোয়ার কেবিন)। এগুলো বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকেট সিস্টেমে ব্যবহৃত কোড।
৬. দিনের যাত্রার জন্য কোন সিট সবচেয়ে ভালো?
বাজেট কম হলে শোভন চেয়ার, আর আরামদায়ক এসি ভ্রমণ চাইলে স্নিগ্ধা বা এসি সিট — দিনের যাত্রার জন্য এগুলোই সবচেয়ে উপযুক্ত। এসি বার্থ সাধারণত রাতের যাত্রার জন্য।
শেষ কথা
শোভন, স্নিগ্ধা ও এসি সিটের মধ্যে কোনটি ভালো — এর কোনো একক "সঠিক" উত্তর নেই, কারণ প্রতিটি শ্রেণিই আলাদা প্রয়োজন মেটানোর জন্য তৈরি। যদি আপনার লক্ষ্য হয় কম খরচে যাতায়াত, তাহলে শোভন চেয়ার যথেষ্ট। গরম এড়িয়ে সাশ্রয়ী এসি ভ্রমণ চাইলে স্নিগ্ধা সেরা। আর বাড়তি আরাম বা রাতের যাত্রায় বিশ্রাম চাইলে এসি সিট কিংবা এসি বার্থের দিকে যেতে পারেন।
সবচেয়ে ভালো পরামর্শ হলো — যাত্রার আগে আপনার বাজেট, সময় ও আরামের চাহিদা মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিন এবং অফিসিয়াল ই-টিকেট সাইট থেকে হালনাগাদ ভাড়া ও আসন প্রাপ্যতা যাচাই করে নিন। আশা করি এই গাইডটি আপনার পরবর্তী ট্রেন ভ্রমণের পরিকল্পনায় সহায়ক হবে। আপনার যাত্রা শুভ ও নিরাপদ হোক!
📢 এমন আরও তথ্যবহুল পোস্ট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন!
নিয়মিত ট্রেনের সময়সূচি, ভাড়া ও ভ্রমণ গাইড পড়তে আমার ব্লগ mamunskblog.com ফলো করুন এবং পোস্টটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

.webp)
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url