ঠান্ডা-কাশি হলে করণীয় | সর্দি ও গলা ব্যথার ঘরোয়া চিকিৎসা
শীতকাল বা মৌসুমি পরিবর্তনের সময় ঠান্ডা লাগলে করণীয় কী — এই প্রশ্নটি অনেকের মনেই আসে। নাক বন্ধ হওয়া, সর্দি ঝরা, গলা ব্যথা ও ক্রমাগত কাশি আমাদের দৈনন্দিন জীবন অসহ্য করে তোলে। অনেকে ওষুধ খেতে চান না, আবার অনেক সময় ওষুধ খেলেও পুরোপুরি আরাম পাওয়া যায় না।
কিন্তু সুখবর হলো — সর্দি কাশি থেকে মুক্তির উপায় আপনার রান্নাঘরেই রয়েছে। মধু, আদা, তুলসী, হলুদ দুধ, লেবু ও লবণ পানির মতো প্রাকৃতিক ভেষজ উপাদান দিয়ে তৈরি ঘরোয়া চিকিৎসা অনেক সময় ওষুধের চেয়েও দ্রুত আরাম দেয় — কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই।
এই আর্টিকেলে বিস্তারিত জানব ঠান্ডা-কাশি হলে করণীয় কী, নাক বন্ধ হলে কী করবেন, সর্দি ও গলা ব্যথার সবচেয়ে কার্যকর ঘরোয়া চিকিৎসা, শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য নিরাপদ উপায় এবং কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি।
📋 এই আর্টিকেলে যা যা আছে
- ঠান্ডা-কাশি হওয়ার কারণগুলো কী?
- ঠান্ডা-কাশির ধরন ও লক্ষণ চেনার উপায়
- সর্দি কাশি কমানোর ৮টি প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপায়
- নাক বন্ধ হলে করণীয় — দ্রুত আরামের ৫টি উপায়
- শিশুদের ঠান্ডা-সর্দি-কাশির ঘরোয়া চিকিৎসা
- গর্ভবতী মায়েদের জন্য নিরাপদ ঘরোয়া চিকিৎসা
- বয়স্কদের ঠান্ডা-সর্দি-কাশির বিশেষ যত্ন
- কতদিন থাকলে ডাক্তার দেখানো জরুরি?
- আরও পড়ুন (সম্পর্কিত আর্টিকেল)
- সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
- শেষকথা
১. ঠান্ডা-কাশি হওয়ার কারণগুলো কী?
ঠান্ডা লাগলে নাক বন্ধ হওয়া, সর্দি ঝরা ও কাশি হওয়া — এই সমস্যাগুলো বিভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে। মূল কারণগুলো হলো:
- ঋতু পরিবর্তন ও ঠান্ডা আবহাওয়ার প্রভাব
- ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ (বিশেষত Rhinovirus ও Influenza Virus)
- ধুলা, ধোঁয়া ও বায়ু দূষণের সংস্পর্শ
- ঠান্ডা পানি ও বরফজাত খাবার অতিরিক্ত খাওয়া
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immune System) দুর্বল হয়ে পড়া
- অতিরিক্ত রাত জাগা ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ
- অ্যালার্জিজনিত সংবেদনশীলতা — ধুলো, ফুলের রেণু বা পোষা প্রাণীর লোমে
- সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা বা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ানো ভাইরাস
২. ঠান্ডা-কাশির ধরন ও লক্ষণ চেনার উপায়
ঠান্ডা-কাশির ধরন ভিন্ন হলে চিকিৎসার পদ্ধতিও আলাদা হয়। সঠিক ঘরোয়া চিকিৎসা বেছে নিতে নিচের টেবিল থেকে আপনার সমস্যা চিনুন:
| অবস্থা / ধরন | সাধারণ লক্ষণ | করণীয় |
|---|---|---|
| ভাইরাসজনিত ঠান্ডা | নাক বন্ধ, সর্দি ঝরা, হাঁচি, হালকা কাশি | বিশ্রাম, বাষ্প গ্রহণ, গরম পানি ও ভেষজ পানীয় |
| ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ | তীব্র জ্বর, গলা ব্যথা, গলায় জ্বালাপোড়া | দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন |
| অ্যালার্জি | নাক চুলকানো, চোখ লাল ও পানি পড়া, ঘন ঘন হাঁচি | অ্যালার্জির উৎস এড়িয়ে চলুন |
| কফ জমা / বুকে কাশি | বুকে চাপ, ঘন ঘন কাশি, কফ বের হওয়া | বাষ্প গ্রহণ, হালকা গরম পানীয়, বুকে তেল মালিশ |
| নাক বন্ধ হওয়া | নিঃশ্বাসে কষ্ট, গন্ধ না পাওয়া, মাথা ভার | বাষ্প, স্যালাইন ড্রপ, হলুদ দুধ, আদা চা |
৩. সর্দি কাশি কমানোর ৮টি কার্যকর প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপায়
নিচের পরীক্ষিত ভেষজ ও প্রাকৃতিক উপায়গুলো অনুসরণ করলে সর্দি কাশি থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে দ্রুত আরাম পাওয়া সম্ভব, কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই:
🌫️ ১. গরম বাষ্প গ্রহণ (Steam Therapy)
উপকারিতা: বন্ধ নাক খুলে দেয়, জমে থাকা কফ নরম ও বের করতে সাহায্য করে, গলার প্রদাহ ও ব্যথা কমায়।
কীভাবে করবেন: একটি বড় পাত্রে ফুটন্ত পানি নিন। মাথায় পুরু কাপড় দিয়ে পাত্রের ওপর ঝুঁকে ৫–১০ মিনিট ধীরে ধীরে বাষ্প নিন। চাইলে কয়েক ফোঁটা ইউক্যালিপটাস অয়েল বা পুদিনার তেল যোগ করুন — নাক বন্ধ খুলতে আরও দ্রুত কাজ করবে। দিনে ২–৩ বার করুন।
🍵 ২. আদা-তুলসী-মধুর চা (Immunity Booster Tea)
উপকারিতা: আদা কফ পরিষ্কার করে ও প্রদাহ কমায়, তুলসী প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক, মধু কাশি প্রশমিত করে ও গলা নরম রাখে।
রেসিপি: দুই কাপ পানি ফুটিয়ে তাতে এক ইঞ্চি আদা কুচি, ৫–৭টি তুলসী পাতা ও আধা চামচ দারুচিনি দিন। ৫ মিনিট ফুটান, ছেঁকে নিয়ে এক চামচ খাঁটি মধু ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। দিনে ২–৩ বার।
🌙 ৩. হলুদ দুধ / গোল্ডেন মিল্ক (Turmeric Golden Milk)
উপকারিতা: হলুদে থাকা কারকিউমিন (Curcumin) শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণসম্পন্ন। এটি ঠান্ডা-কাশি, গলা ব্যথা ও বুকের কফ কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। রাতে ঘুমানোর আগে খেলে কাশি ও ঘুম দুটোই ভালো হয়।
রেসিপি: এক গ্লাস গরম দুধে আধা চা-চামচ হলুদ গুঁড়া, এক চিমটি গোলমরিচ গুঁড়া ও এক চামচ মধু মিশিয়ে প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে পান করুন। গোলমরিচ হলুদের কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
💡 ল্যাকটোজ সংবেদনশীলতা থাকলে নারকেল দুধ ব্যবহার করুন।
🧂 ৪. লবণ পানি দিয়ে গার্গল — গলা ব্যথার ঘরোয়া চিকিৎসা
উপকারিতা: গলার প্রদাহ ও ফোলা কমায়, কাশি এবং গলা ব্যথা দ্রুত হ্রাস করে, প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে জীবাণু ধ্বংস করে।
পদ্ধতি: এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে আধা চা-চামচ লবণ ও এক চিমটি হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে দিনে অন্তত ৩–৪ বার গার্গল করুন। গলা ব্যথার ঘরোয়া চিকিৎসায় এটি সবচেয়ে সহজ ও দ্রুত কার্যকর পদ্ধতি।
🍋 ৫. মধু ও লেবুর গরম পানীয়
উপকারিতা: লেবুর ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, গলা নরম রাখে ও কাশি কমায়, শরীর হাইড্রেট রাখে।
🌿 ৬. তুলসী-কালোজিরা-মধুর মিশ্রণ
উপকারিতা: ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে, কাশি ও ঠান্ডার তীব্রতা কমায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত বাড়ায়।
পদ্ধতি: এক চামচ খাঁটি মধুর সঙ্গে আধা চামচ কালোজিরা গুঁড়া এবং ৩–৪টি তুলসী পাতার রস মিশিয়ে সকালে খালি পেটে ও রাতে ঘুমানোর আগে খান।
🫚 ৭. বুকে ও পায়ে সরিষার তেল মালিশ
উপকারিতা: বুকে জমে থাকা কফ আলগা করে, কাশি কমায়, রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় ও শরীর উষ্ণ রাখে।
পদ্ধতি: সামান্য সরিষার তেল হালকা গরম করে তাতে দুটো রসুনের কোয়া ও এক চিমটি কালোজিরা ফোড়ন দিন। সেই তেল দিয়ে বুক, পিঠ ও পায়ের তলায় রাতে ঘুমানোর আগে মালিশ করুন।
🥣 ৮. গরম চিকেন স্যুপ বা সবজির ঝোল
উপকারিতা: শরীর হাইড্রেট রাখে, গলা নরম ও আরামদায়ক করে, ক্লান্তি ও দুর্বলতা কমায়, কফ তরল রাখে।
পদ্ধতি: আদা, রসুন, পেঁয়াজ ও হলুদ দিয়ে তৈরি গরম মুরগির স্যুপ বা লাল মসুর ডালের ঝোল দিনে ১–২ বার খান। ঠান্ডা-কাশির সময় এটি সবচেয়ে পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার।
৪. নাক বন্ধ হলে করণীয় — দ্রুত আরাম পাওয়ার ৫টি প্রাকৃতিক উপায়
ঠান্ডা লাগলে নাক বন্ধ হওয়া সবচেয়ে বিরক্তিকর উপসর্গ। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, ঘুম নষ্ট হয় এবং মাথা ভার লাগে। নাক বন্ধ হলে করণীয় হিসেবে নিচের প্রাকৃতিক উপায়গুলো দ্রুত কার্যকর:
👃 নাক বন্ধ খোলার ৫টি দ্রুত ভেষজ উপায়
১. বাষ্প + ইউক্যালিপটাস অয়েল: গরম পানিতে ৩–৫ ফোঁটা ইউক্যালিপটাস অয়েল বা পুদিনার তেল দিয়ে বাষ্প নিন। ইউক্যালিপটাসের সক্রিয় উপাদান নাকের শ্লেষ্মা গলিয়ে নাক দ্রুত খুলে দেয়।
২. আদা-লেবুর গরম চা: আদার তীক্ষ্ণ গন্ধ ও উপাদান নাকের প্যাসেজ খুলতে সাহায্য করে এবং প্রদাহ কমায়।
৩. স্যালাইন নাসাল ওয়াশ: এক কাপ হালকা গরম পানিতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে নাকে টানলে সর্দি নরম হয়ে বের হয়ে আসে এবং নাকের প্যাসেজ পরিষ্কার হয়।
৪. হলুদ দুধ রাতে পান করুন: ঘুমানোর আগে এক কাপ হলুদ দুধ পান করুন — এটি নাকের প্রদাহ কমায় ও ঘুমের সময় নাক বন্ধের সমস্যা হ্রাস করে।
৫. মাথা উঁচু রেখে শোওয়া: রাতে ২টি বালিশ ব্যবহার করে মাথা উঁচু করে শুলে নাকের শ্লেষ্মা নিচে নামে এবং শ্বাস নেওয়া সহজ হয়।
৫. শিশুদের ঠান্ডা-সর্দি-কাশি কমানোর ঘরোয়া চিকিৎসা ও করণীয়
শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনো বিকশিত হওয়ার পথে থাকায় ঠান্ডা-কাশিতে তারা বেশি ভোগে। ওষুধ দেওয়ার আগে নিরাপদ ঘরোয়া ব্যবস্থা নিলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়ানো যায় এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবে গড়ে ওঠে।
শিশুদের জন্য নিরাপদ ঘরোয়া উপায়:
- গরম বাষ্প (দূরত্ব রেখে) — বাথরুমে গরম পানির শাওয়ার ছেড়ে শিশুকে ভেতরে কিছুক্ষণ রাখুন; ভাপযুক্ত বাতাসে নাকের সর্দি নরম হয় ও কাশি কমে।
- মধু ও আদার রস (শুধু ১ বছরের বেশি বয়সে) — এক চা-চামচ মধুতে কয়েক ফোঁটা আদার রস মিশিয়ে দিন। ১ বছরের কম বয়সী শিশুকে কখনো মধু দেবেন না।
- বুক ও পিঠে সরিষার তেল মালিশ — হালকা গরম সরিষার তেলে রসুন ফোড়ন দিয়ে মালিশ করুন।
- স্যালাইন নাসাল ড্রপ — শিশুর নাক বন্ধ হলে ডাক্তারের পরামর্শে স্যালাইন ড্রপ ব্যবহার করুন।
- হলুদ দুধ (২ বছরের বেশি বয়সে) — রাতে ঘুমানোর আগে এক কাপ হলুদ দুধ শিশুর ঠান্ডা-কাশি কমাতে কার্যকর।
- লেবু ও তুলসী পাতা সিদ্ধ পানি (১ বছরের বেশি বয়সে) — কয়েক চামচ পান করালে ঠান্ডা কমে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
- ঘর উষ্ণ ও পরিষ্কার রাখুন — ঠান্ডা বাতাস, ভেজা কাপড় ও ধুলাবালি থেকে শিশুকে দূরে রাখুন।
- প্রচুর তরল খাওয়ান — গরম পানি, সবজি বা মুরগির স্যুপ শিশুর গলা নরম রাখে ও কফ তরল করে।
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম নিশ্চিত করুন — শরীরের নিজস্ব নিরাময় ব্যবস্থা সচল রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য।
৬. গর্ভবতী মায়েদের জন্য ঠান্ডা-সর্দি-কাশির নিরাপদ ঘরোয়া চিকিৎসা
গর্ভাবস্থায় মায়ের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা সংবেদনশীল থাকে, তাই নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিচের প্রাকৃতিক উপায়গুলো সাধারণত নিরাপদ।
১। হালকা গরম পানি ও মধু: গলা ব্যথা, কাশি ও শুষ্ক গলার সমস্যা উপশম হয়। শরীর হাইড্রেট থাকে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়।
২। লবণ পানি দিয়ে গার্গল: দিনে ২–৩ বার গার্গল করুন — গলা ব্যথা ও ফোলা কমাতে সম্পূর্ণ নিরাপদ।
৩। বাষ্প গ্রহণ: গরম পানির বাষ্প ৩–৫ মিনিট ধীরে নিলে কফ বের হয় ও নাক বন্ধের সমস্যায় আরাম পাওয়া যায়।
৪। হলুদ দুধ (সীমিত পরিমাণে): রাতে এক কাপ হলুদ দুধ কাশি কমায় ও ঘুম ভালো করে। তবে অতিরিক্ত হলুদ গর্ভাবস্থায় সমস্যা করতে পারে — পরিমাণে সচেতন থাকুন।
৫। হারবাল চা (অল্প পরিমাণে): তুলসী, আদা ও লেবু দিয়ে হালকা চা দিনে এক কাপের বেশি নয়।
৬। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার: কমলা, লেবু, আমলকী ও পেয়ারা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৭। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম।
৭. বয়স্কদের ঠান্ডা-সর্দি-কাশির ঘরোয়া চিকিৎসায় বিশেষ যত্ন ও সতর্কতা
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে আসে এবং ঠান্ডা-কাশি দ্রুত জটিল আকার নিতে পারে। বয়স্কদের জন্য কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি:
- লবণ পানিতে গার্গল — দিনে ৩–৪ বার করুন।
- রাতে হলুদ দুধ পান করুন — কাশি কমবে ও ঘুম ভালো হবে।
- মধু-আদা-লেবুর চা — সকালে ও বিকালে পান করুন।
- পর্যাপ্ত গরম পানি পান — প্রতিদিন অন্তত ৬–৮ গ্লাস; কফ তরল থাকে।
- বাষ্প গ্রহণ — নাক বন্ধ থাকলে দিনে ১–২ বার।
- পুষ্টিকর ও গরম খাবার — হলুদ-আদা দিয়ে রান্না করা সবজির ঝোল, ডাল ও স্যুপ।
- উষ্ণ পোশাক — ঠান্ডা বাতাস ও শীতল পরিবেশ এড়িয়ে চলুন।
- পর্যাপ্ত ঘুম — প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম।
- ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন — এই রোগগুলো থাকলে ঠান্ডা-কাশি দ্রুত জটিল হতে পারে।
- ধূমপান বর্জন করুন — ফুসফুসের অবস্থা আরও খারাপ করে দেয়।
- শীতের আগে ফ্লু ভ্যাকসিন নিন — চিকিৎসকের পরামর্শে।
৮. ঠান্ডা-সর্দি-কাশি কতদিন থাকলে ডাক্তার দেখানো জরুরি?
সাধারণ ঠান্ডা-কাশি প্রাকৃতিক ঘরোয়া চিকিৎসায় ৫–৭ দিনের মধ্যে ভালো হয়। কিন্তু নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
🏥 এই লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে ডাক্তারের কাছে যান:
- উপসর্গ ৭ দিনের বেশি স্থায়ী হলে বা ক্রমাগত খারাপ হতে থাকলে
- তীব্র জ্বর (১০২°F বা তার বেশি) যা ওষুধেও কমছে না
- শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ বা তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করলে
- কাশির সঙ্গে রক্ত বা হলুদ-সবুজ রঙের ঘন কফ বের হলে
- গলায় তীব্র ব্যথা যে কারণে খাওয়া-গেলা যাচ্ছে না
- হঠাৎ দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা বা অস্বাভাবিক ওজন কমলে
- মাথায় তীব্র ব্যথা বা ঘাড় শক্ত হয়ে গেলে
- নাক বন্ধ ২ সপ্তাহের বেশি থাকলে বা মুখে-কপালে চাপ অনুভব হলে (সাইনোসাইটিস হতে পারে)
- শিশু বা গর্ভবতী মায়েদের যেকোনো জটিলতায়
মনে রাখবেন: সময়মতো ডাক্তারের পরামর্শ শুধু রোগ সারায় না, জীবনও বাঁচায়।
🔗 আরও পড়ুন — সম্পর্কিত স্বাস্থ্য আর্টিকেল
- 🌿 কাশি কমানোর ১২টি কার্যকর ঘরোয়া উপায় | দ্রুত আরাম পান
- 🌱 তুলসী পাতার ঔষধিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা — বিস্তারিত গাইড
- 🍵 হারবাল চায়ের উপকারিতা — ১০টি স্বাস্থ্যকর কারণ | Herbal Tea Benefits
- 🌾 মেথি ও গ্যাস্ট্রিক: উপকারিতা, খাওয়ার নিয়ম, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও সতর্কতা
- 💆 উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ঘরোয়া উপায় — কার্যকর প্রাকৃতিক পদ্ধতি
৯. সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ) — ঠান্ডা-কাশি ও সর্দির ঘরোয়া চিকিৎসা
১০. শেষকথা: ঠান্ডা-কাশি হলে করণীয়
ঠান্ডা লাগলে নাক বন্ধ হওয়া, সর্দি ঝরা, গলা ব্যথা ও কাশি — এই সমস্যাগুলো পরিচিত ও বিরক্তিকর হলেও সঠিক সময়ে প্রাকৃতিক যত্ন নিলে সহজেই সারানো সম্ভব। হলুদ দুধ, মধু-আদা চা, লবণ পানির গার্গল, বাষ্প গ্রহণ, তুলসী ও কালোজিরার মতো ঘরোয়া ভেষজ উপাদান — এগুলোই হলো সর্দি কাশি থেকে মুক্তির প্রাকৃতিক উপায়, যা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত ও কার্যকর।
বিশেষত নাক বন্ধ হলে করণীয় হিসেবে বাষ্প গ্রহণ ও হলুদ দুধ এবং গলা ব্যথার ঘরোয়া চিকিৎসায় লবণ পানির গার্গল সবচেয়ে দ্রুত আরাম দেয়।
তবে লক্ষণ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, শ্বাসকষ্ট, তীব্র জ্বর, বুকে ব্যথা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দেয় — তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্য রক্ষা শুরু হয় সচেতনতা থেকে। তাই নিজের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্ত রাখুন, পর্যাপ্ত পানি পান করুন, পুষ্টিকর খাবার খান এবং বিশ্রাম নিন।
সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন — নিজেকে ও আপনার পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন।
লেখাটি ভালো লাগলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন এবং প্রিয়জনদের জানান। এতক্ষণ সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
এরকম আরও স্বাস্থ্য টিপস পেতে ভিজিট করুন: mamunskblog.com

.webp)
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url